01নিদর্শন
কুরআনে বলা হয়েছে, মেঘের ওজন আছে। সন্দেহবাদীরা বলেন, মেঘের ওজন থাকলে তা মাটিতে পড়ে যেত। আজ বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, মেঘ খুবই ভারী।
02বৈজ্ঞানিক প্রমাণ
“একটি মেঘের ওজন কত? আপনার কি মনে হয়, মেঘের কোনো ওজন আছে? হিলিয়াম ভরা বেলুনের মতো বাতাসে ভেসে থাকলে তার ওজন থাকবে কীভাবে? রান্নাঘরের ওজন মাপার যন্ত্রে হিলিয়াম ভরা একটি বেলুন বেঁধে দিলে যন্ত্রে কোনো ওজন দেখাবে না। তাহলে মেঘের ওজন থাকবে কেন?... হিসাব করলে: 1,000,000,000 × 0.5 = 500,000,000 গ্রাম পানির ফোঁটা আছে আমাদের মেঘে। অর্থাৎ প্রায় 500,000 কিলোগ্রাম বা 1.1 মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় 551 টন)।”
তাহলে দেখা গেল, মেঘ আসলে খুবই ভারী। আপনার মাথার ওপর থাকা একটি গড় মেঘের ওজন প্রায় 100টি হাতির সমান। বিষয়টি জানা গেছে সম্প্রতি। অথচ আবিষ্কারের 1400 বছর আগেই কুরআনে এর কথা বলা হয়েছিল।
03কুরআনের আয়াত · কুরআন 13:12
هُوَ الَّذِي يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنْشِئُ السَّحَابَ الثِّقَالَ ١٢
তিনিই তোমাদের বিদ্যুৎ দেখান, যা ভয় ও আশা জাগায়। আর তিনিই ভারী মেঘ তৈরি করেন।
04ভাবনা
“সিকাল ثِّقَالَ” মানে ভারী। এখানে মেঘের ওজনের কথা বলা হয়েছে। আজ আমরা জানি, আগে যেমন ভাবা হতো, মেঘ তেমন ওজনহীন নয়; বরং খুবই ভারী।
অতিরিক্ত তথ্যসূত্র
মূল লেখা: Miracles of Quran। বিজ্ঞানের উদ্ধৃতিতে USGS-এর মূল সূত্র রাখা হয়েছে। নিচের সারাংশ ও কুরআনের ব্যাখ্যাগুলো আলাদাভাবে যোগ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত প্রমাণ — সহজ সারাংশ
USGS-এর হিসাবে উদাহরণ হিসেবে 1 ঘনকিলোমিটার আকারের একটি পুঞ্জমেঘ ধরা হয়েছে। তার প্রতি ঘনমিটারে 0.5 গ্রাম তরল পানি আছে। গুণ করলে পানির ফোঁটাগুলোর মোট ভর হয় 500,000 কিলোগ্রাম। এটি একটি উদাহরণ, সব মেঘের গড় ওজন নয়; মেঘের আকার ও পানির পরিমাণ একেক রকম হয়। মূল লেখার 551 টন হলো মার্কিন শর্ট টন, যা প্রায় 500 মেট্রিক টনের সমান। এই হিসাবে শুধু পানির ফোঁটা ধরা হয়েছে, চারপাশের বাতাস নয়।
অতিরিক্ত প্রমাণ — সহজ সারাংশ
حَتَّىٰٓ إِذَآ أَقَلَّتۡ سَحَابٗا ثِقَالٗا
7:57 আয়াতের এই অংশের অর্থ: “যতক্ষণ না তারা ভারী মেঘ বয়ে আনে”। আয়াতটিতে বাতাস, বৃষ্টিভরা মেঘ এবং শুকনো জমিতে গাছপালা জন্মাতে সাহায্য করা পানির কথা একসঙ্গে এসেছে। ভারী মেঘ নিয়ে ভাবার জন্য এটি কুরআনের আরেকটি প্রাসঙ্গিক আয়াত।
অতিরিক্ত প্রমাণ — সহজ সারাংশ
ইবনে কাসির 13:12 আয়াতের ভারী মেঘকে বৃষ্টির পানিতে ভরা মেঘ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এটি আরবি কথাটির সরাসরি অর্থকে সমর্থন করে। এখানে মেঘের ভর কোনো সংখ্যায় বলা হয়নি। USGS-এর হিসাবটি মেঘের পানির ভর বোঝায়; মানুষ প্রথম কবে মেঘের ওজন জেনেছিল, সে বিষয়ে মূল লেখার দাবিটি প্রমাণ করে না।
05 · ভেবে দেখুন