01নিদর্শন
কুরআনে চলমান ছায়া স্থির হয়ে থাকতে পারে। সন্দেহবাদীরা দাবি করেন, কুরআন যিনি লিখেছেন তিনি ভুল করেছেন; ছায়া কখনো স্থির থাকতে পারে না। আজ জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, জোয়ার সৃষ্টিকারী আকর্ষণের কারণে কোনো গ্রহের ঘূর্ণন এমনভাবে আবদ্ধ হতে পারে যে তার একই পাশ সব সময় তার নক্ষত্রের দিকে থাকে।
02বৈজ্ঞানিক প্রমাণ
“পরস্পরকে ঘিরে ঘোরা দুটি মহাজাগতিক বস্তুর মধ্যে জোয়ারজনিত আবদ্ধ ঘূর্ণন ঘটে তখন, যখন একটি বস্তুর ঘূর্ণনের হারে একটি পুরো কক্ষপথ ঘোরার পর আর কোনো নিট পরিবর্তন থাকে না। আবদ্ধ বস্তুটি যদি সমলয়ভাবে ঘোরে, তবে নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে তার যত সময় লাগে, সঙ্গী বস্তুকে একবার প্রদক্ষিণ করতেও ঠিক তত সময় লাগে। যেমন, চাঁদের একই পাশ সব সময় পৃথিবীর দিকে থাকে...”
জোয়ারজনিত আবদ্ধ ঘূর্ণনের কারণে চাঁদের একই পাশ সব সময় পৃথিবীর দিকে থাকে। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার কথা মনে আছে? চাঁদের মহাকর্ষের কারণেই তা ঘটে। নিচের ছবিটি দেখায়, সমুদ্রের ঘর্ষণ কীভাবে পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতিশক্তি চাঁদে পৌঁছে দেয়:

জোয়ারে ফুলে ওঠা অংশগুলো পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতিশক্তি চাঁদে পৌঁছে দেয়। এতে পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীর হয়ে যায়। একসময় পৃথিবীর ঘূর্ণনের হার আর পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদের ঘোরার হার সমান হয়। তখন জোয়ারের ফুলে ওঠা অংশগুলো আর একই সরলরেখা থেকে সরে থাকে না, আর চাঁদে শক্তিও পৌঁছায় না। পৃথিবীর একই পাশ সব সময় চাঁদের দিকে থাকে।
পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যেও ঠিক এই প্রক্রিয়া ঘটে। পৃথিবী তার ঘূর্ণনের গতিশক্তি সূর্যেও পৌঁছে দেয়। তবে সূর্য অনেক দূরে থাকায় এই শক্তি বিনিময় অনেক দুর্বল। তাই সূর্যের সঙ্গে পৃথিবীর ঘূর্ণন আবদ্ধ হতে অনেক বেশি সময় লাগে। কিন্তু যথেষ্ট সময় পেলে শেষ পর্যন্ত তা ঘটবে। বিষয়টি সম্প্রতি জানা গেছে। অথচ আবিষ্কারের ১৪০০ বছর আগেই কুরআনে এর বর্ণনা ছিল। কুরআন বলে, চলমান ছায়া স্থির থাকতে পারে:
03কুরআনের আয়াত · কুরআন ২৫:৪৫
أَلَمْ تَرَ إِلَىٰ رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ الظِّلَّ وَلَوْ شَاءَ لَجَعَلَهُ سَاكِنًا ثُمَّ جَعَلْنَا الشَّمْسَ عَلَيْهِ دَلِيلًا ٤٥
তুমি কি দেখো না, তোমার রব কীভাবে ছায়া বিস্তৃত করেন? তিনি চাইলে একে স্থির রাখতে পারতেন। তারপর আমরা সূর্যকে তার নির্দেশক করেছি।
04ভাবনা
পৃথিবীর একই পাশ সব সময় সূর্যের দিকে থাকলেই কেবল ছায়া স্থির থাকতে পারে। আজ আমরা জানি, এই অবস্থাই জোয়ারজনিত আবদ্ধ ঘূর্ণন।
অতিরিক্ত তথ্যসূত্র
CC BY-SA 4.0মূল লেখা: Miracles of Quran। উইকিপিডিয়ার উদ্ধৃতি ও তার অনুবাদ CC BY-SA 4.0 লাইসেন্সের আওতায়। নিচের ব্যাখ্যাগুলো আলাদা সংযোজন।
অতিরিক্ত প্রমাণ — সারসংক্ষেপ
নাসা — জোয়ারজনিত আবদ্ধ ঘূর্ণননাসা ব্যাখ্যা করে, চাঁদ নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে এবং পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সমান সময় নেয়। সমুদ্রের জোয়ার পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীর করে এবং চাঁদকে দূরে সরে যেতে সাহায্য করে। তবে মূল লেখায় পৃথিবী একদিন নিশ্চিতভাবে সূর্যের সঙ্গে আবদ্ধ হবে বলা হয়েছে—এটি প্রতিষ্ঠিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। নাসার হিসাবে পৃথিবী ও চাঁদের পারস্পরিক আবদ্ধ হতে প্রায় ৫০ বিলিয়ন বছর লাগত, যদি তারা সূর্যের জীবনের শেষ পর্যায় এড়িয়ে টিকে থাকতে পারত। এই শর্তটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইবনে কাসিরের তাফসির — ২৫:৪৫
ইবনে কাসিরের তাফসির — ২৫:৪৫ইবনে কাসির ছায়াকে ভোর থেকে সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়ের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহ চাইলে একে অপরিবর্তিত রাখতে পারতেন। জোয়ারজনিত আবদ্ধ ঘূর্ণনের সঙ্গে যোগসূত্রটি মূল লেখকের আধুনিক ব্যাখ্যা। আয়াতে কোনো কক্ষপথের মডেল দেওয়া হয়নি, আর পৃথিবী সূর্যের সঙ্গে আবদ্ধ হবে—এমন কথাও বলা হয়নি।
05 · ভেবে দেখুন