# তারার দুলে চলা

> একই ভরকেন্দ্রের চারপাশে।

- বিষয়: জ্যোতির্বিজ্ঞান
- স্তর: উন্নত
- কুরআনের আয়াত: কুরআন 36:38
- URL: https://dailymuslim.org/quran-miracles/stars-wobble?lang=bn

1400 বছর আগে কেউ জানত না যে তারা ও গ্রহ তাদের ভরকেন্দ্রের চারপাশে দুলতে দুলতে ঘোরে। অথচ কুরআনে এর কথা বলা হয়েছিল।

> “ভরকেন্দ্র কী?
আমরা বলি, গ্রহ তারার চারপাশে ঘোরে। কিন্তু এটাই পুরো কথা নয়। আসলে গ্রহ ও তারা দুটিই তাদের মিলিত ভরের কেন্দ্রের চারপাশে ঘোরে। এই কেন্দ্রকে বলা হয় ব্যারিসেন্টার বা যৌথ ভরকেন্দ্র। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ভরকেন্দ্রের সাহায্যে আমাদের সৌরজগতের বাইরেও গ্রহ খুঁজে পান...

কোনো তারার গ্রহ থাকলে তারাটি এমন একটি ভরকেন্দ্রের চারপাশে ঘোরে, যা তার একেবারে নিজের কেন্দ্রে থাকে না। এ কারণেই তারাটিকে দুলতে দেখা যায়।”

— [NASA, ভরকেন্দ্র কী?, 2021](https://spaceplace.nasa.gov/barycenter/en/)

![ওপর থেকে দেখলে, একটি বড় গ্রহ ও একটি তারা তাদের যৌথ ভরকেন্দ্র বা ব্যারিসেন্টারের চারপাশে ঘোরে।](https://dailymuslim.org/miracle-media/stars-wobble/barycenter1.gif)

ওপর থেকে দেখলে, একটি বড় গ্রহ ও একটি তারা তাদের যৌথ ভরকেন্দ্র বা ব্যারিসেন্টারের চারপাশে ঘোরে।

![পাশ থেকে দেখলে, একটি বড় গ্রহ ও একটি তারা তাদের যৌথ ভরকেন্দ্র বা ব্যারিসেন্টারের চারপাশে ঘোরে। এই ভরকেন্দ্র তারার কেন্দ্র থেকে একটু সরে থাকে বলেই তারাটিকে এদিক-ওদিক দুলতে দেখা যায়।](https://dailymuslim.org/miracle-media/stars-wobble/barycenter2.gif)

পাশ থেকে দেখলে, একটি বড় গ্রহ ও একটি তারা তাদের যৌথ ভরকেন্দ্র বা ব্যারিসেন্টারের চারপাশে ঘোরে। এই ভরকেন্দ্র তারার কেন্দ্র থেকে একটু সরে থাকে বলেই তারাটিকে এদিক-ওদিক দুলতে দেখা যায়।

![দূরের একজন পর্যবেক্ষকের চোখে ভরকেন্দ্রটি সোজা পথে চলে, কিন্তু তারা ও তার চারপাশে ঘোরা গ্রহগুলো প্যাঁচানো পথে চলে। বিষয়টি জানা গেছে সম্প্রতি। অথচ আবিষ্কারের 1400 বছর আগেই কুরআনে এর কথা বলা হয়েছিল। সূর্যের চলা বোঝাতে বলা হয়েছে, তা যেন কারও দৌড়ানোর মতো।](https://dailymuslim.org/miracle-media/stars-wobble/stars-wobble.gif)

দূরের একজন পর্যবেক্ষকের চোখে ভরকেন্দ্রটি সোজা পথে চলে, কিন্তু তারা ও তার চারপাশে ঘোরা গ্রহগুলো প্যাঁচানো পথে চলে। বিষয়টি জানা গেছে সম্প্রতি। অথচ আবিষ্কারের 1400 বছর আগেই কুরআনে এর কথা বলা হয়েছিল। সূর্যের চলা বোঝাতে বলা হয়েছে, তা যেন কারও দৌড়ানোর মতো।

## কুরআনের আয়াত · কুরআন 36:38

٣٨ وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ

*আর সূর্য তার গন্তব্যের দিকে ছুটে চলে। এটাই মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নির্ধারিত ব্যবস্থা।*

“তাজরি تَجْرِي” শব্দের মানে দৌড়ানো। আজ আমরা বুঝি, কুরআনে কেন এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ, আপনি দৌড়ালে দূর থেকে মানুষ আপনার ওঠানামাও দেখতে পায়। আজ আমরা জানি, তারা ও গ্রহের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্য; দূরের পর্যবেক্ষকেরা তাদের চলার মধ্যে ওঠানামাও দেখতে পান। কুরআনে কোনো ভুল নেই।

### অতিরিক্ত তথ্যসূত্র

> মূল লেখা: Miracles of Quran। বিজ্ঞানের উদ্ধৃতিগুলোতে মূল NASA সূত্র রাখা হয়েছে। তারার প্রথম দুটি চলমান ছবি NASA Space Place-এর; তৃতীয়টি মূল নিবন্ধ থেকে নেওয়া। নিচের সারাংশ ও কুরআনের ব্যাখ্যাগুলো আলাদাভাবে যোগ করা হয়েছে।

— [Miracles of Quran](https://www.miracles-of-quran.com/stars_wobble.html)

### অতিরিক্ত প্রমাণ — সহজ সারাংশ

> একটি তারা ও একটি গ্রহ পরস্পরকে টানে এবং তাদের যৌথ ভরকেন্দ্রের চারপাশে ঘোরে। NASA Space Place সূর্য ও বৃহস্পতির উদাহরণ দিয়েছে: তাদের যৌথ কেন্দ্র সূর্যের পৃষ্ঠের ঠিক বাইরে থাকে। চলমান ছবিগুলো সহজ করে আঁকা মডেল। কোনো পথ প্যাঁচানো দেখাবে কি না, তা নির্ভর করে যে অবস্থান থেকে দেখা হচ্ছে তার তুলনায় পুরো ব্যবস্থাটি কীভাবে চলছে। তাই দূরের সব পর্যবেক্ষক একই প্যাঁচানো পথ দেখবেন না।

— [NASA Space Place — What Is a Barycenter?](https://spaceplace.nasa.gov/barycenter/en/)

### অতিরিক্ত প্রমাণ — সহজ সারাংশ

> NASA–NSF-এর NEID যন্ত্র একটি তারার আমাদের দিকে আসা ও আমাদের থেকে দূরে যাওয়ার গতিতে ছোট ছোট পরিবর্তন মাপে। একে রেডিয়াল ভেলোসিটি পদ্ধতি বলে। তারার চারপাশের গ্রহের টানে এই পরিবর্তন হয়। তারা দুলে চলার ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে বাস্তব গবেষণায় গ্রহ খোঁজা ও তাদের সম্পর্কে জানা হয়।

— [NASA–NSF — NEID](https://www.nasa.gov/universe/a-new-tool-for-weighing-unseen-planets/)

### অতিরিক্ত প্রমাণ — সহজ সারাংশ

> وَكُلّٞ فِي فَلَكٖ يَسۡبَحُونَ

> 36:40 আয়াতের শেষ অংশের অর্থ: “প্রত্যেকেই নিজ কক্ষপথে চলে”। আয়াতের আশপাশের কথায় সূর্য, চাঁদ, রাত ও দিন এসেছে। আকাশের বস্তুগুলোর সুশৃঙ্খল চলা নিয়ে ভাবতে এটি কুরআনের প্রাসঙ্গিক বক্তব্য।

— [কুরআন 36:40](https://quran.com/36/40)

### অতিরিক্ত প্রমাণ — সহজ সারাংশ

> 36:38-এর ব্যাখ্যায় ইবনে কাসির সূর্যের নির্ধারিত পথ ও সময় নিয়ে আলোচনা করেছেন। “তাজরি” শব্দকে বিশেষভাবে যৌথ ভরকেন্দ্রের চারপাশে চলার সঙ্গে মেলানো একটি আধুনিক ব্যাখ্যা; আয়াতে এই প্রক্রিয়াটি সরাসরি বলা নেই। বিজ্ঞান তারার দুলে চলাকে সমর্থন করে, কিন্তু ওই ব্যাখ্যা বা কে প্রথম তা জানত, সে বিষয়ে মূল লেখার দাবি প্রমাণ করে না।

— [তাফসির ইবনে কাসির — 36:38](https://quran.com/ya-sin/38/tafsirs/en-tafisr-ibn-kathir)

## ভেবে দেখুন

**1400 বছর আগে বাস করা একজন নিরক্ষর মানুষ কীভাবে জানতেন যে তারারা দুলে চলে?**

## সূত্র ও আরও পড়ুন

- [কুরআন 36:38 · Quran.com](https://quran.com/36/38)
- [NASA Space Place — What Is a Barycenter?](https://spaceplace.nasa.gov/barycenter/en/)
- [Miracles of Quran](https://www.miracles-of-quran.com/stars_wobble.html)

— কুরআনের মুজিযা, Daily Muslim · https://dailymuslim.org/quran-miracles/stars-wobble?lang=bn
